Lamborghini Huracán LP 610-4 t

উপলব্ধি

সবে অনার্স সেকেন্ড ইয়ার এ পড়ছি। জীবনের অনেক কিছুই দেখা বাকি, অনেক সাধ আহলাদ পূরন করা বাকি। তবে একটা জিনিষ ভেবে খুব পূলকিত হই নিজেই।।ইয়ে, মানে।।।।।আমার লাভার্, প্রেমিকা একটা কিছু ধরে নিন্। মেয়েটা যে রানী ভিক্টোরিয়া এটা বলব না কিন্তু অনেক মায়াবী দেখতে ও। ওর সাথে কিভাবে পরিচয় এটা বলতে গেলে দিন পার হয়ে যাবে, তবে এটুকু বলব, মেয়েটা আমার সম্পূর্ণ অন্তর জুড়ে ছিল। আর আমার চিন্তাধারা টা হয়্ত বা সেকেলে লাগতে পারে কিন্তু আমি মনে করি, প্রতিটি প্রেমিক হৃদয় এমন হলে ভাল হত। জীবন এ যাকে একবার ভালবাসব, মরন পর্যন্ত তাকেই।


জ্ঞানী কথা বাদ দিয়ে কাহিনীটা বলি। সেদিন ছিল ১২ ই ফেব্রুয়ারী। আর দুইদিন পর ভালেনটাইনস ডে। ভালবাসা দিবস্! দুনিয়ার সব প্রেমিক্- প্রেমিকার প্রত্যাশিত দিন্। দারুন ভাল লাগছিল, একটার পর একটা প্লান করছিলাম আর বাতিল করছিলাম আর ও ভাল কিছুর জন্য। বিশেষ দিনটা তে তার সামনে কিভাবে উপস্থাপন করব নিজেকে, কোথায় যাব, সারাটা দিন কী করব ইত্যাদি। একবার ভাবলাম আমি যেমন ভাবছি, ও নিশ্চয়ই কিছু ভাবছে আমাকে চমকে দিতে ~~ আবার পুলকিত হলাম্। তখন ও জানিনা কি চমক অপেক্ষা করছে আমার জন্যে। একবার মনে হল ফোন দিয়ে দেখি তো কী করছে পেতনি টা।।।যেই ভাবা সেই কাজ্।


দিলাম কল্, কিন্তু সেই কুটনী বুড়ি বলে উঠল 'এই মুহুর্তে সংযোগ্,,,,,'। ফোন অফ করে রেখেছে। কী কারন হতে পারে,,,,,ভাবতে লাগলাম্। চিন্তা ও করতে পারিনি, কী অপেক্ষা করছে আমার জন্যে। টুকিটাকি কাজ সেরে নিচ্ছিলাম্,,মন টা ব্যস্ত হয়ে উঠল, ৩০ মিনিট পর আবার কল দিলাম্। এবার ও অফ্। এবার মেজাজ টা গরম হয়ে গেল। ১ ঘন্টা পর আবার কল দিলাম্। এবার ও অফ্। অজানা আশঙ্কায় হালকা কেঁপে উঠলাম্। ওইদিন বিকাল এ কল দিলাম আবার্। এবার ফোন অফ ছিল না, রিং হল, কিন্তু ওপাশ থেকে কেউ ধরল না। এমনটা কখনই করেনা ও।


প্রচন্ড অস্থির লাগছিল। ভাবলাম একবার বাসায় যাই, পরক্ষনে ভাবলাম আজকের দিন টা অপেক্ষা করি। কিন্তু কোন কাজেই মন বসছিল না। ওর কাছ থেকে ফোন টা এলো রাত ১১ টার দিকে। ফোন টা ধরেই দিলাম এক ঝাড়ি, ফোন বন্ধ ছিল কেন আর ধরেনি কেন। ও কোন সারা দিল না। কিছুক্ষন পর থমথমে গলায় বলল 'কাল আমার বিয়ে। বাবা সবকিছু ঠিকঠাক করে এসেছেন্। আমার আর কোন উপায় নেই, আমাকে ক্ষমা করে দিও পারলে, প্লিজ ' আমি হাসতে হাসতেই বললাম 'ফাজলামি বন্ধ কর। এখন বল কেন ফোন বন্ধ ছিল?' কেঁদে বলল মেয়েটা 'আজ আমার গায়ে হলুদ্।
আমার হবু স্বামী কে ফোন এ হোল্ড করে তোমাকে কল করেছি, ওকে বলেছি তুমি আমার ঘনিষ্ট একটা বন্ধু, ওর সাথে কথা বল'' এটা বলার কিছুক্ষন পর একটা পুরুষ কন্ঠ শোনা গেল ফোন এ,, কি বলল কিছু বুঝলাম না। বোঝার মত অবস্থা ছিল না আমার্। আমার দুনিয়ায় তখন কয়েক কোটি টর্নেডো ঘুরছে! বসে পড়লাম ধপ করে! ভাবতে লাগলাম কী হল এটা! আমি হয়্ত জ্ঞান হারিয়েছিলাম্, কারন পরদিন সকালে নিজেকে আবিস্কার করলাম মেঝেতে। একটু একটু করে বিশ্বাস করতে শুরু করলাম্। ওইদিন ছিল ১৩ ফেব্রুয়ারী। আজ বিয়ে হচ্ছে ওর্। কিন্তু আমার সাথে নয়্!



কেমন একটা ঘোঁরের মধ্যে আছি! ভাবলাম অনেকে তো সুইসাইড করে, আমিও করব নাকি? নাহ্, সুইসাইড করে লাভ নেই, এক নরক এ তো আছি ই, আরেক নরকে যেতে চাইনা! সময় বয়েঁ যাচ্ছে আস্তে আস্তে, ঝাঁপসা লাগছে দুনিয়া টা,,,অনেক গুলো ফোন এসেছিল একটা ও ধরি নি,,,প্রশ্ন ই আসেনা!,,,,ঝিম ধরে আছে মাথা টা,,,একটু আগে আমার বেস্ট ফ্রেন্ড রাফাত এসেছিল, দরজা খুলিনি,,তারপর এসেছিল পাশের বাসার জুনিয়র এক ফ্রেন্ড আসাদ্, ছেলেটা সিনিয়র দের সাথে আড্ডা দিতে পছন্দ করে, কিন্তু আড্ডা ! গল্প ! আমার জীবন এর করুন গল্প টা থেকে হয়্ত আর্-ও চমকপ্রদ গল্প হতে পারেনা!


দরজা খুলি নি, গতকাল রাত থেকে কিছুই খেতে পারি নি, এখন ও ইচ্ছে করছে না। সন্ধ্যা হয়ে গেছে,,,,এক ই ভাবে বসে আছি, হয়্ত এখন অনেক মজা করছে ও, ফ্যামিলী আর নতুন স্বামী নিয়ে,,,,,রাত ৯ টা বাজে,,,,১১ টা,,,,আর ১ ঘন্টা পর ১৪ ফেব্রুয়ারী। ভ্যালেন্তাইনস ডে। মুচ্'কি হাসলাম নিজের অজান্তেই,,,কালকের জন্যে অনেক প্লান করেছিলাম্,,,অনেক আশা, প্রত্যাশা,,,, রাত ১২ টা বাজে। আজ ১৪ ফেব্রুয়ারী। মনে মনে ওকে নিষেধ করেছিলাম এস এম এস অথবা কল দিতে। দেয় ও নি। কয়েকটা ফ্রেন্ড কল দিয়েছিল। ধরি নি। কাঁদছিলাম্, হ্যাঁ, বলতে লজ্জা নেই,, অমুল্য একটা সম্পদ হারিয়ে আমি এখন পথের ফকির্,,আমার সম্পদ এখন আরেকজন এর ঘরে!



ভাবলেই বিশাল ছোঁরা টা বার বার আঘাত করে হৃদয়ে! একবার ভাবি, যার সাথে বিয়ে হল ওকে খুন করি,,,! পরক্ষনেই ভাবলাম্, তাতে লাভ কী? উল্টো ওর ভালবাসা টুকু ও হারাব। চোখ বুজলাম্,,,,,এত কষ্টের মাঝেও যে ঘুম হয় মানুষের্, উপলব্ধি করলাম সকালে,,,,অবসন্ন দেহ ঘুমে ঢলে পড়েছিল,,,,সকালে ঘুম ভাঙল ডোরবেল এর আওয়াজ এ। বিছানা থেকে উঠতে ইচ্ছে করল না। আবার বাজল হতচ্ছাড়াঁ বেল টা। খোদা জানেন কোন বেকুব্,,,,না খুললে সারাদিন বাঁজাবে! উঠলাম্। ২ দিন পেটে কিছু পড়েনি। কোন মতে টেনে টেনে হাপাতে হাপাতে দরজা পর্যন্ত গেলাম্। দরজা খুলে দেখি,,,,,,,!!


ক্ষনিকের জন্য হার্টবিট বেড়ে গেল, দপ করে কমে গেল ১৩ তারিখ এর কথা মনে হতেই। মনের সমস্ত জোর এক করে স্বাভাবিক ভাবে জিজ্ঞেস করলাম কেন এসেছে? ওর কিছু তো নেই আমার কাছে!!! মুচকি মুচকি হাসছে মেয়েটা। দেখে পিত্তি জ্বলে গেল। চোখ মুখ প্রচন্ড লাল হয়ে উঠছে আমার্। কিছু বলতে গিয়েও থেমে গেলাম্। আমার অবস্থা দেখে মোটেও ভাবান্তি দেখলাম না ওর মাঝে, উল্টো এর পরে যা বলল সেটাই আমার জীবন এর সব চেয়ে স্বরণীয় ঘটনা। ও বলেছিল '' এটা তোমার জন্য সারপ্রাইজ্। তোমাকে কী গিফ্'ট করব তা এক মাস ভেবে ও বের করতে পারি নি, কোন কিছুই তোমাকে গিফ্'ট দেয়ার যোগ্য না, তবে একটা জিনিষ ছাড়া।
,,,,,,,,,আমি নিজে! আমি নিজেই তোমার গিফ্'ট্।'' এরপর মুখ লাল করে বলল '' আমার বিয়ে টিয়ে কিচ্ছু হয় নি,,,,ওটা বলেছিলাম যাতে তুমি আজ গিফ্'ট তার মুল্য উপলব্ধি করতে পারো, আর যে ছেলেটা তোমার সাথে কথা বলেছিল ও আমার কাজিন্'' আমি কথা গুলো শুনছিলাম আর ভাবছিলাম আমি বোধহয় এখন নরক্/স্বর্গে, পৃথিবী তে নেই! হয়্তবা স্বর্গে ই,,,,,তখন যে কেমন লাগছিল, তা লিখে বর্ণনা করা সম্ভব না, এটা তুলনাহীন একটা পাওয়া!,,,,,অন্য কিছুর সাথে তুলনা করা টা বোকামী। একবার চরম ভাল লাগছিল আরেকবার প্রচন্ড রাগ হচ্ছিল!,,,,,মোহ টা ভাঙতে দেখলাম আমার কাঁধে মাথা রেখে কাঁদছে ও,,,''আমি ভেবেছিলাম তুমি অনেক রাগ করবে, কিন্তু এমন ভেঙে পড়বে, ভাবতে পারি নি, আমি আর কখনই এমন করব না,,,,,কথা দিলাম্''',,,,,এবার আমার পালা।


৩০ মিনিট ধরে যত্ত গালি দেওয়া যায়্, সব ঝাড়লাম্,,,,,কিন্তু ওর মুখ দেখে মনে হল না একটু ও রাগ করেছে। গালি দেওয়া শেষে, চুপচাপ দাড়িয়ে আছি। তখন মুচকি হেসে জিজ্ঞেস করল ও, ''গিফ্'ট টা ভাল লেগেছে?'' প্রশ্ন টার উত্তর দেই নি তখন্। আজ্, ৮ বছর পর এখনো ভ্যালেন্টাইনস ডে এলেই আমাকে খেপায় 'গিফ্'ট টা ভাল লেগেছে?' এখন ও জবাব দেই না, শুধু মুচকি হাসি, মনে পরে যায় সেদিন টার কথা, আজ অবশ্য অনেক আলাদা,,,,,আমার ভালবাসা আমার ই আছে, কোথাও যাবে না আর মেয়েটা। মেয়েটা আর মেয়ে নেই, ও এখন আমার ছোট্ট সোনামণি 'শ্রাবন্তী'র মা!